বৃহস্পতিবার ● ৩০ মে ২০২৪

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এক লাখ লোক পানি বন্দি

প্রথম পাতা » অনিয়ম-দুর্নীতি » কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এক লাখ লোক পানি বন্দি
বৃহস্পতিবার ● ৩০ মে ২০২৪


কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এক লাখ লোক পানি বন্দি

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এক লাখ লোক পানি বন্দি

।। এম এ মোহিত।।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙ্গণ দেখা দেওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় এক লক্ষাধীক লোক পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। ধলাই নদীর এমন চোখ রাঙানি প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে। এমন দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য নদী শাসনের নেই স্থায়ী উদ্যোগ। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ধলাই নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শহরের মানুষ পড়ে বিজলী-বন্যার দুর্দশায়। বোরো ধান, সবজি ক্ষেত, মাছ ও মুরগির খামার ছাড়াও গ্রামীণ সড়ক ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বেশ কিছু বাসিন্দাও হঠাৎ পানিবন্দি।  চোখের পলকেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকায় অবস্থান নিয়ে কয়েক ঘণ্টা পরেই শান্ত। দীর্ঘদিন থেকে অনাদর অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে থাকা একসময়ের স্রোতস্বিনী ঐতিহ্যবাহী ধলাই নদীর কদর ছিল অন্যরকম। মাছ, জলজ প্রাণী, জলপথে যাতায়াত ও কৃষিকাজে সেচ সহায়কের গুরু দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকায় ধলাইর সুনাম ও খ্যাতি ছিল জেলা জুড়ে। জানা যায়, ধলাই নদীর উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায়। ১৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীটি কমলগঞ্জ ইসলামপুর হয়ে রাজনগরের মনসুরনগর এলাকায় এসে মনু নদীতে মিশেছে। কয়েক যুগ থেকে দখল, দূষণ আর নাব্য হ্রাসে এখন অস্তিত্ব সংকটে। জানা যায়, ফ্লাশ ফ্লাড বা বিজলী বন্যা। এখন ধলাই নদী তীরের বাসিন্দাদের এক মূর্ত আতঙ্ক। ওখানে কিংবা উজানে বৃষ্টি হলেই কাটে নির্ঘুম রাত।
দিনের শুরুতে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা। দিন শেষে শান্ত নদী ঠিক আগের মতোই। মধ্যখানের ভয়ার্ত রূপ। চোখের পলকেই সবই শেষ। আকর্ষিক নদীর পানি উপচে উঠে ঘরবাড়ি, ক্ষেত কৃষি, মৎস্যখামার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ডুবিয়ে দেয়।  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নদী তীরের লক্ষাধিক মানুষ।

দুর্ভোগগ্রস্তদের অভিযোগ চরম ঝুঁকিপূর্ণ দু’একটি স্থানে মেরামত হলেও হয় না অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের মেরামত। বয়ে চলা এই দুর্ভোগ স্থায়ী সমাধানে নদীর শাসনের কোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বা উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। নদী তীরের বাসিন্দারা ধলাই নদীর এমন বন্যার নাম দিয়েছেন ‘ঝলক বা বিজলী বন্যা’। কারণ আকর্ষিক ও ক্ষণস্থায়ী বন্যা ভয়ার্ত রূপ দেখায় মাত্র হাতেগোনা কয়েক ঘণ্টা। এই কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবেই সবই উজাড় করে গ্রাস করে রাক্ষুসে নদী। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিসের তথ্যমতে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায়। পুরো উপজেলায় ব্যাপক সবজি চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি হয় ধলাই নদীর তীরে। কিন্তু সবজি চাষের ঐতিহ্যবাহী উপজেলাটি শুধুমাত্র ধলাই নদী ভরাট ও বাঁধ মেরামত না হওয়ায় তাদের সেই সুনাম ও ঐতিহ্য এখন হারাতে বসেছে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের রহিমপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর, কুশালপুর ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ ও নারায়ণপুরে বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ধলাই নদীর আরও ১৫ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ২টি ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক ও খামারিরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছরই আমরা এরকম দুর্ভোগ আর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নদী শাসনের স্থায়ী কোনো উদ্যোগই নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। টুকটাক যে মেরামত করা হয় তাও বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় কোনো উপকারে আসে না। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত না করলে তাদের বাড়িঘরও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। জানা গেল, নদীটির ১৫টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার  জানায়, আকস্মিক বন্যায় ধলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ১৩৬ হেক্টর সবজি, ৪৫ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা, ৩৮২ হেক্টর রোপণকৃত আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল ন, ধলাই নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে। ধলাই নদীর সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০:৩৫:০৭ ● ১২১ বার পঠিত